সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। নবান্নের অর্থ দফতর আনুষ্ঠানিকভাবে সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) গঠনের ঘোষণা করেছে। নতুন এই কমিশন রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের বেতন, মহার্ঘ ভাতা (ডিএ), বিভিন্ন ভাতা, পেনশন এবং অন্যান্য পরিষেবা সংক্রান্ত সুবিধাগুলি বর্তমান সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যালোচনা করে সুপারিশ করবে। ২২ জুলাই প্রকাশিত অর্থ দফতরের সরকারি প্রস্তাবে কমিশনের গঠন, কার্যপরিধি এবং কাজের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কারা থাকছেন সপ্তম বেতন কমিশনে?
রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কমিশনের চেয়ারপার্সন হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে ভারতের অর্থ মন্ত্রকের অর্থনৈতিক বিষয়ক বিভাগের প্রাক্তন সচিব অতনু চক্রবর্তীকে। কমিশনের সদস্য হিসেবে রয়েছেন সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চ-এর সিনিয়র ফেলো ড. পার্থ মুখোপাধ্যায় এবং আইআইএম কলকাতার অর্থনীতির অধ্যাপক ড. পার্থ প্রতিম পাল। সদস্য-সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দফতরের সচিব দেবী প্রসাদ করণম।
- Chairperson: Shri Atanu Chakraborty, IAS, Retd. Secretary to the Government of India,
Department of Economic Affairs, Ministry of Finance;
- Member: Dr. Partha Mukhopadhyay, Senior Fellow at Centre for Policy Research;
- Member: Dr. Partha Pratim Pal, Professor of Economics, IIM, Calcutta,
- Member Secretary: Shri Devi Prasad Karanam, IAS, Secretary to the Government of
West Bengal, Finance Department.
কমিশনের মূল দায়িত্ব কী?
সরকারের নির্ধারিত কার্যপরিধি অনুযায়ী, কমিশন শুধু নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে সুপারিশ করবে না, পাশাপাশি বিদ্যমান বিভিন্ন ভাতা, মহার্ঘ ভাতা (ডিএ), ভ্রমণ ভাতা, বিশেষ ভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধাও পর্যালোচনা করবে। এছাড়া বর্তমান কর্মীদের নতুন বেতন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশন সংশোধনের বিষয়েও সুপারিশ করবে।
পরিষেবা ও পদোন্নতি ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হবে
বেতন সংশোধনের পাশাপাশি সরকারি কর্মীদের পদোন্নতির বর্তমান নীতি, কর্মদক্ষতা, জবাবদিহিতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং কর্ম-জীবনের ভারসাম্যের মতো বিষয়গুলিও কমিশনের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে। দক্ষ কর্মী আকর্ষণ এবং সরকারি পরিষেবার মানোন্নয়নের জন্য কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন, সেই বিষয়েও সুপারিশ করা হবে।
পেনশনভোগীরাও থাকছেন কমিশনের আওতায়
নতুন কমিশন অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশন, চিকিৎসা-সহ অবসরকালীন সুবিধা এবং অন্যান্য প্রাপ্য বিষয়ও পর্যালোচনা করবে। ভবিষ্যতে রাজ্য সরকার প্রয়োজন মনে করলে অতিরিক্ত বিষয়ও কমিশনের কাছে পাঠাতে পারবে।
কোন বিষয়গুলি মাথায় রেখে সুপারিশ করবে কমিশন?
সরকার কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে যে সুপারিশ তৈরির সময় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—
- কেন্দ্র সরকারের বর্তমান বেতন কাঠামো
- অন্যান্য রাজ্যের বেতন ব্যবস্থা
- রাজ্যের আর্থিক সক্ষমতা
- উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক ব্যয়ের চাপ
- সরকারি সংস্থা, বোর্ড ও কর্পোরেশনগুলির আর্থিক অবস্থা
- কেন্দ্রের অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশ ও সিদ্ধান্ত (প্রকাশিত হলে)
কারা এই কমিশনের আওতায় আসবেন?
সরকারি প্রস্তাব অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন অধিকাংশ সরকারি কর্মচারী, বিভিন্ন পর্ষদ, কর্পোরেশন, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, স্থানীয় সংস্থা এবং তালিকাভুক্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এই কমিশনের আওতায় থাকবেন। তবে অল ইন্ডিয়া সার্ভিস, পশ্চিমবঙ্গ বিচার বিভাগীয় পরিষেবা এবং যাঁদের ক্ষেত্রে ইউজিসি, এআইসিটিই বা আইসিএআর-এর বেতন কাঠামো প্রযোজ্য, তাঁরা এই কমিশনের আওতার বাইরে থাকবেন। প্রস্তাবে বিস্তৃত একটি সংযুক্ত তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে।
কবে জমা পড়বে কমিশনের রিপোর্ট?
সরকার কমিশনকে যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কমিশন গঠনের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের তারিখ থেকে ছয় মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে কমিশন অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্টও জমা দিতে পারবে। কমিশনের সদর দপ্তর কলকাতায় হবে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত?
রাজ্যের লক্ষাধিক সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগী দীর্ঘদিন ধরে বেতন কাঠামো, ডিএ, পেনশন এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে সপ্তম বেতন কমিশন গঠনকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও কমিশন এখনই বেতন বৃদ্ধি বা নতুন স্কেলের ঘোষণা করেনি, তবে সুপারিশের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে সরকারি কর্মীদের বেতন ও পরিষেবা কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
উপসংহার
পশ্চিমবঙ্গে সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের মাধ্যমে সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের বেতন, ভাতা এবং পরিষেবা ব্যবস্থার একটি সামগ্রিক পর্যালোচনার প্রক্রিয়া শুরু হল। আগামী কয়েক মাসে কমিশনের সুপারিশের দিকে নজর থাকবে লক্ষাধিক সরকারি কর্মচারী, অবসরপ্রাপ্ত কর্মী এবং প্রশাসনিক মহলের। কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্টের ভিত্তিতেই স্পষ্ট হবে ভবিষ্যতে রাজ্যের বেতন কাঠামো, ডিএ, পেনশন এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধায় কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

