সংক্ষিপ্ত সারাংশ: মুখ্যমন্ত্রী সুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের ৫৫২টি থানার পরিকাঠামোগত ঘাটতি স্বীকার করে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় সহযোগিতায় প্রায় আড়াইশো থেকে তিনশোটি থানা আপগ্রেড করা হবে, পাশাপাশি ধাপে ধাপে বদলানো হবে পুলিশের ৪ হাজার পুরনো, বিমাবিহীন গাড়ি। সিসিটিভি, বডি ক্যামেরার মতো আধুনিক প্রযুক্তি এবং গুজরাত ও অসমে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও ঘোষণা করা হয়েছে, সঙ্গে এনআইএ-র আদলে রাজ্যে একটি এসআইএ গঠনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
কলকাতা হেরাল্ড ডট কম ডেস্ক: রাজ্য পুলিশের কাঠামোগত দুর্বলতা নিয়ে খোলাখুলি স্বীকারোক্তি দিয়ে পরিকাঠামো ঢেলে সাজার প্রতিশ্রুতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী সুভেন্দু অধিকারী। এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, রাজ্যের ৫৫২টি থানার অধিকাংশেই নেই পর্যাপ্ত ভবন, ব্যারাক, বিশুদ্ধ পানীয় জল বা শরীরচর্চার ন্যূনতম ব্যবস্থা।
থানা আপগ্রেডেশনে কেন্দ্রের সাহায্য
মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে থানা আপগ্রেড করার প্রস্তাব দিয়েছিল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে এবার আরও বেশি সংখ্যক থানাকে আপগ্রেডেশনের আওতায় আনা হচ্ছে — প্রায় আড়াইশো থেকে তিনশোটি থানা এই তালিকায় থাকবে বলে জানান তিনি।
পুরনো গাড়ি বদলে আধুনিক যানবাহন
রাজ্য পুলিশের প্রায় ৪ হাজার গাড়ির অধিকাংশই ১৫ বছরের পুরনো এবং বিমাবিহীন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে পথচারী বা পুলিশকর্মী কেউই বিমার সুবিধা পান না বলে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, ধাপে ধাপে এই গাড়িগুলি পরিবর্তন করে আধুনিক যানবাহনের ব্যবস্থা করা হবে।
সিসিটিভি, বডি ক্যামেরা ও আধুনিক প্রশিক্ষণ
পুলিশের হাতে সিসিটিভি, বডি ক্যামেরা-সহ আধুনিক প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি গুজরাতের রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অসমের তেজপুরে বিএসএফ পুলিশ প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ধাপে ধাপে পুলিশকর্মী পাঠানোর কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। এনআইএ-র আদলে রাজ্যে একটি এসআইএ (স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি) গঠনের সিদ্ধান্তও ঘোষণা করা হয়েছে।
উপসংহার
দশ সপ্তাহ বয়সী সরকারের এই ঘোষণাগুলি রাজ্য পুলিশের দীর্ঘদিনের পরিকাঠামোগত ঘাটতি মেটানোর লক্ষ্যে একটি পরিকল্পিত রোডম্যাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে। থানা আপগ্রেডেশন থেকে যানবাহন পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন থেকে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ — প্রতিটি পদক্ষেপই বাস্তবায়িত হতে সময় লাগবে বলে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন। তবে কেন্দ্রীয় সহযোগিতার আশ্বাস ও স্পষ্ট সময়সীমার উল্লেখ রাজ্য পুলিশ মহলে আশাব্যঞ্জক বার্তা দিচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

