সংক্ষিপ্ত সারাংশ: মুখ্যমন্ত্রী সুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য ২০ শতাংশ ডিএ অক্টোবর মাস থেকে কার্যকর হবে, ফলে কেন্দ্রের সঙ্গে ফারাক ৪২ শতাংশ থেকে কমে ২২ শতাংশে দাঁড়াবে। দীর্ঘ ১২০০ দিনের আন্দোলন ও দুই দফা অনশনের পর এই সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক স্বীকৃতি বলে বর্ণনা করেছেন কর্মচারী নেতা ভাস্কর ঘোষ, যদিও বাকি বকেয়া ও দুর্নীতি-বিরোধী লড়াইয়ে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর এবং রেশন ভাতা ১৫০০ থেকে বাড়িয়ে ২০০০ টাকা করার ঘোষণাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী, যা পুজোর আগে সরকারি কর্মীমহলে স্বস্তি জোগাচ্ছে।
কলকাতা ব্যুরো: রাজ্য সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া দাবি মিটিয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী সুভেন্দু অধিকারী। পুলিশ প্রশাসনের এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, আসন্ন দুর্গাপুজোর আগেই, অক্টোবর মাস থেকে কর্মীদের জন্য ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) কার্যকর হবে।
কেন্দ্রের তুলনায় বকেয়া ফারাক কমে ২২ শতাংশ
মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীদের তুলনায় রাজ্যের কর্মীদের ডিএ-র ফারাক ছিল প্রায় ৪২ শতাংশ। এই ২০ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে এখন সেই ব্যবধান কমে দাঁড়িয়েছে ২২ শতাংশে। তিনি স্বীকার করেন, এই বিশাল ব্যবধান একদিনে মেটানো সম্ভব নয়, তবে ধাপে ধাপে তা পূরণের চেষ্টা চলছে। বাজেটে ইতিমধ্যেই এই ঘোষণা হয়েছে এবং অর্থ দফতরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে পুজোর আগেই, অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে এই বর্ধিত ভাতা মিটিয়ে দেওয়া হয়।
১২০০ দিনের আন্দোলনের ফসল, বলছেন কর্মচারী নেতৃত্ব
এই ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে ডিএ আন্দোলনে যুক্ত সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের প্রতিনিধি ভাস্কর ঘোষ। তাঁর কথায়, ঋতু বদলেও আন্দোলন থামেনি — গত ১২০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে এই লড়াই চলছে, যার মধ্যে দুইবার অনশন কর্মসূচিও পালিত হয়েছে, একবার ৪৫ দিন এবং আরেকবার ৫২ দিন ধরে। তাঁর দাবি, দেশের কোথাও সরকারি কর্মীদের এমন দীর্ঘ ও কঠিন লড়াই চালাতে হয়নি।
ভাস্কর ঘোষ আরও বলেন, এক ধাক্কায় ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধি পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা, যা আগের কোনও সরকারের আমলে, এমনকি বাম আমলেও হয়নি। তাঁর মতে, এতদিন সমস্যা ছিল সদিচ্ছার অভাব, আর বর্তমান সরকার সেই সদিচ্ছা দেখিয়েছে বলেই এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ সম্ভব হয়েছে। তিনি এই সিদ্ধান্তকে কর্মচারী ও শিক্ষকদের দীর্ঘ আন্দোলনের স্বীকৃতি হিসেবেই দেখছেন এবং সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশিত বাকি ডিএ গ্যারান্টি-নেট সহ শীঘ্রই মিটিয়ে দেওয়া হবে বলে আশাপ্রকাশ করেছেন। অস্থায়ী কর্মচারীদের বকেয়া বিষয়টি নিয়েও আলাদাভাবে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
সপ্তম বেতন কমিশনও দ্রুত কার্যকরের প্রতিশ্রুতি
মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, রাজ্যের কর্মীরা এতদিন সপ্তম বেতন কমিশনের সুবিধাও পাননি, যেখানে দেশের অন্যান্য অংশ ইতিমধ্যে ষষ্ঠ বেতন কমিশন পেরিয়ে গেছে। সরকার সপ্তম বেতন কমিশন গঠন করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে রিপোর্ট এলেই তা কার্যকর করা হবে।
রেশন ভাতাও বৃদ্ধি
ডিএ-র পাশাপাশি রেশন ভাতাও বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০১৭ সালে যেখানে রেশন ভাতা ছিল ১৫০০ টাকা, তা অক্টোবর মাস থেকে বাড়িয়ে ২০০০ টাকা করার কথা জানান তিনি, একে দুর্গাপুজোর উপহার হিসেবে অভিহিত করেন।
উপসংহার
দীর্ঘ ১২০০ দিনের আন্দোলন এবং একাধিক অনশন কর্মসূচির পর সরকারি কর্মীদের ডিএ ফারাক ৪২ শতাংশ থেকে কমে ২২ শতাংশে পৌঁছনো রাজ্যের কর্মচারী আন্দোলনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। কর্মচারী নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া থেকে স্পষ্ট, এই সিদ্ধান্তকে তাঁরা দীর্ঘ লড়াইয়ের স্বীকৃতি হিসেবেই দেখছেন, যদিও পুরো ফারাক মেটার আগে আন্দোলন সম্পূর্ণ থামছে না। কেন্দ্রের সঙ্গে ব্যবধান ঘোচানোর প্রতিশ্রুতি এবং সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকরের ইঙ্গিত পুজোর মরসুমের ঠিক আগে সরকারি কর্মীমহলে নতুন আশার সঞ্চার করছে।

