কলকাতা হেরাল্ড ডট কম ডেস্ক: উচ্চশিক্ষার পথে অনেক মেধাবী ছাত্রীর জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় নিরাপদ ও সাশ্রয়ী যাতায়াতের অভাব। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী ছাত্রীরা প্রতিদিন কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছাতে নানা সমস্যার মুখোমুখি হন। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং তাদের আরও স্বনির্ভর করে তুলতে বড় পদক্ষেপ নিল উত্তরপ্রদেশ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বাধীন রাজ্য মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে ‘রানি লক্ষ্মীবাই স্কুটি যোজনা’-র। এই প্রকল্পের আওতায় মেধাবী ছাত্রীদের বিনামূল্যে স্কুটি দেওয়া হবে, যাতে তারা আরও সহজ, নিরাপদ ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে পারেন।
উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের নতুন দিশা, মেধাবী ছাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে স্কুটি দেবে সরকার
উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং যাতায়াতের সমস্যার কারণে পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা কমাতে বড় পদক্ষেপ নিল উত্তরপ্রদেশ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন পেল ‘রানি লক্ষ্মীবাই স্কুটি যোজনা’। এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের মেধাবী স্নাতক স্তরের ছাত্রীদের বিনামূল্যে পেট্রোলচালিত স্কুটি দেওয়া হবে। সরকারের মতে, এই উদ্যোগ ছাত্রীর নিরাপদ ও সহজ যাতায়াত নিশ্চিত করার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষায় তাদের অংশগ্রহণ বাড়াবে এবং বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদের জন্য নতুন সুযোগের দ্বার খুলে দেবে।
কী এই রানি লক্ষ্মীবাই স্কুটি যোজনা?
উত্তরপ্রদেশ সরকারের এই নতুন প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত মেধাবী ছাত্রীদের উৎসাহিত করা এবং তাদের কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতকে আরও সহজ ও নিরাপদ করে তোলা। রাজ্য সরকারের মতে, অনেক মেধাবী ছাত্রী শুধুমাত্র যাতায়াতের অসুবিধার কারণে নিয়মিত ক্লাস করতে পারেন না বা উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে সমস্যার মুখে পড়েন। এই বাস্তব সমস্যার সমাধান করতেই চালু করা হচ্ছে রানি লক্ষ্মীবাই স্কুটি যোজনা।
কারা পাবেন এই সুবিধা?
এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি কলেজ, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্ব-অর্থায়িত কলেজে অধ্যয়নরত স্নাতক স্তরের ছাত্রীরা। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শীর্ষ ৫ শতাংশ মেধাবী ছাত্রীকে নির্বাচন করা হবে। অর্থাৎ, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মেধাতালিকার ভিত্তিতেই উপভোক্তাদের বেছে নেওয়া হবে।
আয়সীমা ও যোগ্যতার শর্ত
এই প্রকল্পের জন্য সাধারণভাবে আবেদনকারীর পরিবারের বার্ষিক আয় ১২ লক্ষ টাকার কম হতে হবে। এছাড়াও নির্বাচিত ছাত্রীর বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। তবে সমাজের বিশেষ কিছু শ্রেণির ছাত্রীর জন্য সরকার গুরুত্বপূর্ণ ছাড়ের ব্যবস্থা করেছে। শহিদ পরিবারের কন্যা, প্রতিবন্ধী ছাত্রী এবং অসহায় বা দুঃস্থ পরিবারের মেয়েদের ক্ষেত্রে মেধা ও আয়সীমার শর্ত শিথিল করা হবে। ফলে প্রকৃত প্রয়োজন থাকা ছাত্রীরাও এই প্রকল্পের আওতায় আসতে পারবেন।
শুধু স্কুটি নয়, মিলবে আরও একাধিক সুবিধা
সরকার শুধু একটি স্কুটি দিয়েই দায়িত্ব শেষ করছে না। প্রতিটি নির্বাচিত ছাত্রীর জন্য স্কুটির রেজিস্ট্রেশন ফি, বিমার খরচ, একটি নিরাপত্তা হেলমেট, প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক সামগ্রী এবং প্রাথমিক ব্যবহারের জন্য পেট্রোলের ব্যবস্থাও করা হবে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, স্কুটি কেনার পুরো প্রক্রিয়াটি একটি নির্দিষ্ট অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে স্বচ্ছ পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হবে।
কেন পেট্রোলচালিত স্কুটি?
বর্তমানে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়লেও উত্তরপ্রদেশ সরকার এই প্রকল্পে পেট্রোলচালিত স্কুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী যোগেন্দ্র উপাধ্যায় জানিয়েছেন, রাজ্যের সর্বত্র পেট্রোল পাম্প ও সার্ভিস সেন্টার সহজলভ্য হওয়ায় ছাত্রীরা যেকোনো এলাকায় সহজেই স্কুটি ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারবেন। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কতজন ছাত্রী উপকৃত হবেন?
রাজ্য সরকারের প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, চলতি বছর প্রায় ৫০ হাজার মেধাবী ছাত্রী এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন। ভবিষ্যতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ও বরাদ্দ বাড়লে উপভোক্তার সংখ্যাও বৃদ্ধি পেতে পারে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হল নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য যাতায়াতের ব্যবস্থা। গ্রামাঞ্চলের বহু ছাত্রীকে প্রতিদিন দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে কলেজে যেতে হয়। পর্যাপ্ত গণপরিবহন না থাকায় অনেক সময় তাদের পড়াশোনা ব্যাহত হয়। ব্যক্তিগত একটি স্কুটি শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, এটি একজন ছাত্রীর স্বাধীনতা, আত্মবিশ্বাস এবং সময় ব্যবস্থাপনাকেও শক্তিশালী করে। এর ফলে নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি বাড়বে, পড়াশোনায় ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং উচ্চশিক্ষা শেষ করার সম্ভাবনাও বাড়বে।
নারী ক্ষমতায়নের পথে আরও এক ধাপ
রানি লক্ষ্মীবাই স্কুটি যোজনাকে শুধু একটি কল্যাণমূলক প্রকল্প হিসেবে দেখছে না উত্তরপ্রদেশ সরকার। এটি নারী ক্ষমতায়ন, শিক্ষার প্রসার এবং সামাজিক উন্নয়নের একটি দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। শিক্ষা ও স্বাধীন চলাচলের সুযোগ বাড়লে ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।
উপসংহার
রানি লক্ষ্মীবাই স্কুটি যোজনা উত্তরপ্রদেশে উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ। বিনামূল্যে স্কুটি, বিমা, রেজিস্ট্রেশন, হেলমেট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে সরকার শুধু যাতায়াতের সমস্যা দূর করতে চাইছে না, বরং মেধাবী ছাত্রীর শিক্ষাজীবনকে আরও নিরাপদ, সহজ এবং স্বনির্ভর করে তুলতে চাইছে। প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে হাজার হাজার তরুণীর উচ্চশিক্ষার পথ আরও সুগম হবে এবং নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে উত্তরপ্রদেশে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

