
কৃত্রিম মেধা (এআই) প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগের মধ্যেই ফের কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটল মাইক্রোসফট। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪,৮০০ কর্মীকে ছাঁটাই করা হবে, যা তাদের মোট কর্মীসংখ্যার প্রায় ২.১ শতাংশ। ব্যবসায়িক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং এআই খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বজায় রাখার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
প্রযুক্তি শিল্পে গত কয়েক মাস ধরে ছাঁটাইয়ের প্রবণতা অব্যাহত। মাইক্রোসফটের আগে অ্যামাজন, মেটা-সহ একাধিক প্রযুক্তি সংস্থা কর্মীসংখ্যা কমিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম মেধা পরিকাঠামো গড়ে তুলতে বিপুল ব্যয় হচ্ছে। সেই বিনিয়োগের আর্থিক ফল দ্রুত দেখানোর চাপও বাড়ছে সংস্থাগুলির উপর।
মাইক্রোসফটের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস ক্লাউড পরিষেবা ‘আজ়ুর’। এআই প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান চাহিদার জেরে আজ়ুরের ব্যবসা বৃদ্ধি পেলেও, ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণ এবং উন্নত পরিকাঠামো তৈরিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে সংস্থাকে। ফলে নগদ প্রবাহের উপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
এ বছর মাইক্রোসফটের শেয়ারের পারফরম্যান্সও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীরা এখন এআই-ভিত্তিক ব্যবসা থেকে দ্রুত মুনাফা দেখতে চাইছেন। সেই কারণেই খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং সাংগঠনিক পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে প্রযুক্তি সংস্থাগুলি।
চাপের মুখে রয়েছে মাইক্রোসফটের গেমিং বিভাগও। এক্সবক্স ব্যবসার লাভজনকতা কমে যাওয়া এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা ইতিমধ্যেই স্বীকার করেছে সংস্থার নেতৃত্ব। সংস্থার গেমিং বিভাগের প্রধান আশা শর্মা সম্প্রতি জানিয়েছেন, বর্তমান ব্যবসায়িক কাঠামোকে আরও কার্যকর এবং লাভজনক করে তোলার জন্য একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
চলতি মাসেই আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করতে চলেছে মাইক্রোসফট। তার আগে এই ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত প্রযুক্তি মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এআই-নির্ভর ভবিষ্যতের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে প্রযুক্তি সংস্থাগুলি এখন কর্মীসংখ্যা, ব্যয় এবং বিনিয়োগ— এই তিনের মধ্যে নতুন ভারসাম্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
