বিশ্ব ফুটবলে প্রতিভার কোনও অভাব নেই, তবে প্রতিটি প্রজন্মেই কয়েকজন খেলোয়াড় নিজেদের আলাদা উচ্চতায় নিয়ে যান। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে, ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলের পরিসংখ্যান, ট্রফি এবং পারফরম্যান্সের নিরিখে বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। কে কোথায় আছেন, দেখে নেওয়া যাক।
১. কিলিয়ান এমবাপে (ফ্রান্স)
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: জন্ম ২০ ডিসেম্বর ১৯৯৮; পজিশন — স্ট্রাইকার; বর্তমান ক্লাব — রিয়াল মাদ্রিদ।
এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে বিবেচিত হন। মোনাকো থেকে উঠে আসা এমবাপে পিএসজিতে ২১২ গোল করে ক্লাবের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন। ২০২৪ সালে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর তাঁর ফর্ম আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে — ২০২৫-২৬ মরশুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৯ ম্যাচে ৪৩ গোল ও ৮ অ্যাসিস্ট রয়েছে তাঁর নামের পাশে।

২. লামিনে ইয়ামাল (স্পেন)
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: জন্ম ১৩ জুলাই ২০০৭; পজিশন — রাইট উইঙ্গার; বর্তমান ক্লাব — বার্সেলোনা।
মাত্র ১৮ বছর বয়সেই বিশ্বফুটবলের অন্যতম আলোচিত নাম। বার্সেলোনার লা মাসিয়া থেকে উঠে আসা এই উইঙ্গার ২০২৪-২৫ মরশুমে দলের ট্রেবল জয়ে ১৮ গোল ও ২১ অ্যাসিস্ট করেন এবং টানা দুইবার কোপা ট্রফি জেতা প্রথম ফুটবলার হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন।

২০২৬ সালের বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছেন ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাঁর পরেই রয়েছেন স্পেনের তরুণ সেনসেশন লামিন ইয়ামাল এবং ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেন। সেরা দশে আরও জায়গা পেয়েছেন উসমান দেম্বেলে, রাফিনিয়া, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, খভিচা কাভারাতসখেলিয়া, মাইকেল ওলিসে, পেদ্রি এবং এরলিং হালান্ড। ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, গোল, অ্যাসিস্ট এবং ট্রফি জয়ের ভিত্তিতে এই তালিকা তৈরি হয়েছে। অভিজ্ঞ তারকাদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের উত্থান বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে।
৩. হ্যারি কেন (ইংল্যান্ড)
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: জন্ম ২৮ জুলাই ১৯৯৩; পজিশন — স্ট্রাইকার; বর্তমান ক্লাব — বায়ার্ন মিউনিখ।
স্পার্স থেকে বায়ার্ন মিউনিখ — কেনের কেরিয়ার গোলের বন্যায় ভরা। টটেনহ্যামের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি, এবং জার্মানিতে পাড়ি দেওয়ার পর বুন্দেসলিগাতেও টানা দুই মরশুম শীর্ষ গোলদাতার তালিকায় রয়েছেন।
৪. ওসমান দেম্বেলে (ফ্রান্স)
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: জন্ম ১৫ মে ১৯৯৭; পজিশন — ফরোয়ার্ড; বর্তমান ক্লাব — পিএসজি।
২০২৫ সালে ব্যালন ডি’অর জয়ী দেম্বেলে বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়নস লিগ ও ব্যালন ডি’অর — তিনটি সম্মানই জেতা হাতে গোনা কয়েকজন ফুটবলারের একজন। পিএসজিতে তাঁর ধারাবাহিকতা তাঁকে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ডে পরিণত করেছে।
৫. রাফিনিয়া (ব্রাজিল)
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: জন্ম ১৪ ডিসেম্বর ১৯৯৬; পজিশন — উইঙ্গার; বর্তমান ক্লাব — বার্সেলোনা।
লিডস থেকে বার্সেলোনায় আসা রাফিনিয়া হানসি ফ্লিকের অধীনে নিজেকে সম্পূর্ণ নতুন রূপে চিনিয়েছেন। ২০২৪-২৫ চ্যাম্পিয়নস লিগে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতা ছিলেন তিনি।
৬. ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (ব্রাজিল)
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: জন্ম ১২ জুলাই ২০০০; পজিশন — উইঙ্গার; বর্তমান ক্লাব — রিয়াল মাদ্রিদ।
রিয়াল মাদ্রিদের অন্যতম বিশ্বস্ত অস্ত্র, গতি ও ড্রিবলিংয়ে যাঁর জুড়ি মেলা ভার। একাধিক চ্যাম্পিয়নস লিগ ও লা লিগা খেতাব জয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তিনি।
৭. খভিচা কেভারাটস্খেলিয়া (জর্জিয়া)
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: জন্ম ১২ ফেব্রুয়ারি ২০০১; পজিশন — উইঙ্গার; বর্তমান ক্লাব — পিএসজি।
নাপোলিতে ৩৩ বছর পর স্কুদেত্তো জয়ের নায়ক, বর্তমানে পিএসজিতে খেলা এই উইঙ্গার তাঁর নিজের দেশের ফুটবলকেই বিশ্বমানচিত্রে তুলে ধরেছেন।
৮. মাইকেল ওলিসে (ফ্রান্স)
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: জন্ম ১২ ডিসেম্বর ২০০১; পজিশন — উইঙ্গার/অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার; বর্তমান ক্লাব — বায়ার্ন মিউনিখ।
ক্রিস্টাল প্যালেস থেকে বায়ার্ন মিউনিখে গিয়ে বুন্দেসলিগায় ঝড় তুলেছেন। ২০২৫-২৬ মরশুমে ১৩ গোল ও ১৮ অ্যাসিস্ট নিয়ে লিগের অন্যতম সেরা প্লেমেকার তিনি।
৯. পেদ্রি (স্পেন)
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: জন্ম ২৫ নভেম্বর ২০০২; পজিশন — সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার; বর্তমান ক্লাব — বার্সেলোনা।
বার্সেলোনার মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রক, যাঁর বয়সের তুলনায় খেলার পরিপক্বতা বিস্ময়কর। মেসির রেকর্ড ভেঙে বার্সেলোনার সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ১৫০ লা লিগা ম্যাচ খেলার নজির গড়েছেন।
১০. আর্লিং হাল্যান্ড (নরওয়ে)
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: জন্ম ২১ জুলাই ২০০০; পজিশন — স্ট্রাইকার; বর্তমান ক্লাব — ম্যানচেস্টার সিটি।
ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে অভিষেক মরশুমেই ৩৫ ম্যাচে ৩৬ গোল করে গোল্ডেন বুট জেতা হাল্যান্ড সম্ভবত বিশ্বের সেরা প্রকৃত স্ট্রাইকার। নরওয়ের হয়ে তাঁর আন্তর্জাতিক গোলসংখ্যাও রীতিমতো বিস্ময়কর।
উপসংহার
এই তালিকা প্রমাণ করে, আধুনিক ফুটবল আর শুধু একজন-দুজন সুপারস্টারের গল্প নয় — এটি প্রতিভার এক বিশাল সমুদ্র, যেখানে অভিজ্ঞ কিংবদন্তিরা এখনও নিজেদের প্রমাণ করে চলেছেন, আবার লামিনে ইয়ামালের মতো কিশোররাও অবিশ্বাস্য দ্রুততায় শীর্ষে উঠে আসছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রেক্ষাপটে এই তালিকার প্রতিটি নাম আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, কারণ এঁদের পারফরম্যান্সের উপরই নির্ভর করবে অনেক জাতীয় দলের ভাগ্য। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আগামী কয়েক বছর হতে চলেছে এই তারকাদের একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই দেখার এক অসাধারণ সময়।

