সংক্ষিপ্ত সার সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের খাবারের মানোন্নয়ন নিয়ে বড় স্বস্তি পেল রাজ্য সরকার। রোগীপিছু খাবারের বরাদ্দ ৫৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১২ টাকা করার সিদ্ধান্তে Single Bench যে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল, তা খারিজ করে দিয়েছে Calcutta High Court এর Division Bench। ফলে নতুন বরাদ্দ কার্যকর করার পথে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।
কলকাতা ব্যুরো: হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা একজন রোগীর কাছে থালার খাবারটাও কিন্তু ওষুধের মতোই জরুরি। আর সেই খাবারের মানই যদি প্রশ্নের মুখে পড়ে, তাহলে গোটা চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপরই আঙুল ওঠে। ঠিক এই জায়গা থেকেই রাজ্য সরকার সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের খাবারের বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, আর সেই সিদ্ধান্ত ঘিরেই তৈরি হয়েছিল আইনি জটিলতা। মঙ্গলবার Calcutta High Court এর রায়ে সেই জট অনেকটাই কেটে গেল।
কী ঘটেছিল গোড়ায়
রাজ্য সরকার বাজেটে ঘোষণা করেছিল, সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের জন্য মাথাপিছু খাবারের বরাদ্দ ৫৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১২ টাকা করা হবে, যাতে রোগীরা তুলনামূলক পুষ্টিকর ও ভালো মানের খাবার পান। সেই মতো জুলাই মাসে নতুন করে রান্না করা খাবার সরবরাহের জন্য টেন্ডার ডাকা হয়। কিন্তু সেই টেন্ডারকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতে যায় রূপা এন্টারপ্রাইজেস নামে একটি সংস্থা। তাদের মূল আপত্তি ছিল, হাসপাতালের খাবারের দাম নির্ধারণ নিয়ে আগে থেকেই একটি মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও ব্রড বেসড কমিটির সুপারিশ ছাড়াই নতুন দরপত্র ডেকে ফেলা হয়েছে।
Single Bench এর স্থগিতাদেশ
এই যুক্তি শুনে Calcutta High Court এর Justice Krishna Rao এর Single Bench সেই সময় নতুন টেন্ডারের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে দেয়। এর ফলে রাজ্যের হাতে থাকা নতুন বরাদ্দ কার্যকর করার পরিকল্পনা কার্যত থমকে যায়, যদিও রাজ্যের ইচ্ছে ছিল ১ আগস্ট থেকেই এই বাড়তি বরাদ্দ চালু করা।
Division Bench এর পর্যবেক্ষণ
এই স্থগিতাদেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রাজ্য সরকার Division Bench এ যায়। মঙ্গলবার Justice Shampa Sarkar এবং Justice Ajay Gupta এর বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। বেঞ্চের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ ছিল, বাজারদর ও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জিনিসপত্রের মূল্যসূচক যে বেড়েছে তা নিয়ে আদৌ কোনো বিতর্কের অবকাশ নেই। আদালত আরও জানায়, কোনো একটি মামলা বিচারাধীন থাকার অজুহাতে প্রশাসনের প্রতিটি নীতিগত সিদ্ধান্তকে আটকে রাখা যায় না, বিশেষত যখন সেই সিদ্ধান্ত সরাসরি রোগীকল্যাণের সঙ্গে যুক্ত।
রায়ের ফলে কী বদলাল
সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর Division Bench সিঙ্গল বেঞ্চের আগের নির্দেশ খারিজ করে দেয়। এর ফলে রোগীদের জন্য বাড়তি খাবারের বরাদ্দ কার্যকর করার পথে আপাতত আর কোনো আইনি বাধা রইল না। রাজ্যের তরফে এই শুনানিতে সওয়াল করেন আইনজীবী শ্রীজীব চক্রবর্তী এবং আদিত্য মণ্ডল। আদালতের এই রায়কে অনেকেই হাসপাতাল পরিষেবার মান উন্নয়নের পথে একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন।

উপসংহার
একটা সাধারণ টেন্ডার সংক্রান্ত মামলা যেভাবে হাজার হাজার রোগীর দৈনন্দিন খাবারের মানকে প্রভাবিত করছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসার এই রায় বাস্তবিকই স্বস্তির। আদালতের এই পর্যবেক্ষণ একটা গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দেয়, প্রশাসনিক জটিলতার আড়ালে জনকল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিন আটকে রাখা যায় না। এবার দেখার বিষয়, বাস্তবে হাসপাতালের প্রতিটি বেডে এই বাড়তি বরাদ্দের সুফল কতটা দ্রুত আর কতটা কার্যকরভাবে পৌঁছায়।

