প্রযুক্তি ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির প্রতিযোগিতা এখন আর শুধু নতুন App বা Software তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। Artificial Intelligence, Cloud Computing, Search Engine, Social Media, E Commerce এবং Digital Infrastructure মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে আগামী দিনের অর্থনৈতিক শক্তির ভিত্তি। এই প্রতিযোগিতায় বর্তমানে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন। দুই দেশই নিজেদের প্রযুক্তি সংস্থাকে কেন্দ্র করে এমন একটি শক্তিশালী Digital Ecosystem গড়ে তুলেছে, যা শুধু নিজ দেশের বাজার নয়, আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ডিজিটাল বাজার হওয়া সত্ত্বেও ভারত এই প্রতিযোগিতায় কোথায় দাঁড়িয়ে এবং ভবিষ্যতে নিজেদের প্রযুক্তিগত পরিচয় কতটা শক্তিশালী করতে পারবে।

প্রযুক্তির দুনিয়ায় দুই সুপার পাওয়ারের আধিপত্য
বর্তমান সময়ে প্রযুক্তি বিশ্বের মানচিত্রে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন দুটি ভিন্ন কিন্তু সমান শক্তিশালী মডেল তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি মূলত Innovation, গবেষণা এবং বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় Digital Platform গড়ে তোলার মধ্যে। Google, Amazon, YouTube, Instagram এবং OpenAI এর মতো প্রতিষ্ঠান কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে চীন বিদেশি প্ল্যাটফর্মের বিকল্প তৈরি করে নিজস্ব Digital Ecosystem গড়ে তুলেছে। WeChat, Baidu, Alibaba, Bilibili এবং TikTok এর মতো প্ল্যাটফর্ম শুধু দেশীয় বাজারেই নয়, অনেক ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক বাজারেও নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে।
Artificial Intelligence ক্ষেত্রেও দুই দেশের প্রতিযোগিতা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ChatGPT, Gemini এবং Claude যেমন বিশ্বব্যাপী আলোচনায় রয়েছে, তেমনি চীনের DeepSeek, Qwen এবং Kimi AI দ্রুত নিজেদের সক্ষমতা বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক AI প্রতিযোগিতায় শক্ত অবস্থান তৈরি করছে। এই প্রতিযোগিতা শুধু প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার নয়, বরং ভবিষ্যতের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রতিরক্ষা এবং শিল্প উৎপাদনের ওপর নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার লড়াইও।
এই প্রেক্ষাপটে ভারতের অবস্থান কিছুটা আলাদা। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ Internet ব্যবহারকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও এখনও Search Engine, Global Social Media Platform কিংবা Large Language Model এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ভারতের নিজস্ব আন্তর্জাতিক মানের প্ল্যাটফর্মের সংখ্যা খুবই সীমিত। যদিও Flipkart, Jio, ONDC এবং Krutrim এর মতো উদ্যোগ দেশীয় প্রযুক্তি বিকাশের ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে, তবুও বিশ্ববাজারে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে আরও বড় বিনিয়োগ, উন্নত Computing Infrastructure, গবেষণা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির প্রয়োজন রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দশক হবে AI এবং Deep Technology নির্ভর অর্থনীতির দশক। এই সময়ে শুধু বিদেশি প্রযুক্তির ব্যবহারকারী হয়ে থাকলে চলবে না, বরং নিজস্ব গবেষণা, Innovation এবং Global Technology Brand তৈরি করাই হবে ভারতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং একই সঙ্গে সবচেয়ে বড় সুযোগ। যদি সেই লক্ষ্য পূরণ করা যায়, তবে ভারত শুধু বিশ্বের বৃহত্তম ডিজিটাল বাজার হিসেবেই নয়, প্রযুক্তি উদ্ভাবনের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী দেশ হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

