সংক্ষিপ্ত সারাংশ: প্রশ্নপত্রে একাধিক ত্রুটির অভিযোগ পাওয়ার পর University Grants Commission National Eligibility Test অর্থাৎ UGC NET এর তিনটে বিষয়ে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে National Testing Agency বা NTA। ইংরেজি এবং কমার্স বিষয়ের পুনঃপরীক্ষা হবে ৯ সেপ্টেম্বর, আর সোসিওলজি বিষয়ের পুনঃপরীক্ষা হবে ১০ সেপ্টেম্বর। জুন মাসে অনুষ্ঠিত মূল পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে তথ্যগত ভুল, বানান ভুল এবং অস্পষ্ট প্রশ্নের অভিযোগ তুলেছিলেন পরীক্ষার্থীরা।
চাকরি ও শিক্ষা প্রতিবেদক: দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে সহকারী অধ্যাপক নিয়োগ এবং জুনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা পরীক্ষা হলো UGC NET। জুন মাসে দেশের ৮৭টা বিষয়ের উপর এই পরীক্ষা নেওয়ার পর প্রশ্নপত্র নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ ওঠে পরীক্ষার্থী এবং শিক্ষার্থীদের তরফ থেকে। বিশেষ করে ইংরেজি এবং কমার্স বিষয়ে আগের বছরগুলোর প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি, বানান ভুল এবং দুর্বল প্রুফরিডিংয়ের অভিযোগ ওঠে, আর সোসিওলজি বিষয়ে বিভ্রান্তিকর শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ তোলা হয়। এই সব অভিযোগ খতিয়ে দেখার পরই রবিবার NTA ঘোষণা করে যে তিনটে বিষয়ের পরীক্ষা নতুন করে নেওয়া হবে।
কী কী ভুল পাওয়া গেছে
বিষয়টা খতিয়ে দেখতে গঠন করা একটা কমিটির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে বেশ কিছু গুরুতর সমস্যা। কমিটি জানিয়েছে, তিনটে প্রশ্নপত্রেই একাধিক তথ্যগত ভুল, বানান ভুল এবং অনুবাদ সংক্রান্ত ত্রুটি ছিল। এর মধ্যে ছিল বিখ্যাত পণ্ডিতদের নাম ভুলভাবে উল্লেখ করা, বইয়ের শিরোনামে ভুল বানান, ব্যাকরণগত এবং শব্দবিন্যাসের ভুল, লিঙ্গ ও সংখ্যাগত অসঙ্গতি, বিরাম চিহ্নের ভুল প্রয়োগ, এবং অপ্রচলিত পরিভাষার ব্যবহার। এছাড়া আগে একাধিকবার জিজ্ঞাসিত হওয়া একটা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রশ্নের পুনরাবৃত্তিও লক্ষ্য করা গেছে বলে কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কমিটির মতে, এই ধরনের ত্রুটিযুক্ত প্রশ্নপত্র পরীক্ষার স্বচ্ছতা এবং ত্রুটিমুক্ত মূল্যায়নের মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
নতুন পরীক্ষার সূচি
NTA র অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী তিনটে বিষয়ের পুনঃপরীক্ষার নির্দিষ্ট সময়সূচি এরকম, ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষা হবে ৯ সেপ্টেম্বর প্রথম শিফটে, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। একই দিনে কমার্স বিষয়ের পরীক্ষা হবে দ্বিতীয় শিফটে, বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। আর সোসিওলজি বিষয়ের পরীক্ষা হবে ১০ সেপ্টেম্বর প্রথম শিফটে, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। শহর, কেন্দ্র এবং অ্যাডমিট কার্ড সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আলাদাভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই তিনটে বিষয়ের পুনঃপরীক্ষার জন্য প্রার্থীদের থেকে কোনো বাড়তি পরীক্ষার ফি নেওয়া হবে না।
NTA স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে এই তিনটে প্রশ্নপত্রে যে মাত্রায় ত্রুটি পাওয়া গেছে, তা শুধু challenge প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভুল প্রশ্ন বাদ দিয়ে সংশোধন করা সম্ভব নয়। তাই ন্যায্য এবং ত্রুটিমুক্ত পরীক্ষার স্বার্থে সম্পূর্ণ নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাকি ৮৪টা বিষয়ের কী হবে
যে ৮৪টা বিষয়ের জন্য ইতিমধ্যে answer key challenge প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, সেই বিষয়গুলোর ফলাফল নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ীই প্রকাশিত হবে। এই তিনটে বিষয়ের পুনঃপরীক্ষার কারণে বাকি ৮৪টা বিষয়ের জুনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপের আসন বণ্টন বা সহকারী অধ্যাপক এবং পিএইচডি ভর্তির যোগ্যতা সংক্রান্ত ই সার্টিফিকেট প্রদানে কোনো বিলম্ব হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে NTA।
সহকারী অধ্যাপক পদের যোগ্যতা অর্জনের জন্য যোগ্য প্রার্থীর সংখ্যা নির্ধারিত হবে জুন ২০২৬ এর মূল পরীক্ষা অথবা পুনঃপরীক্ষা, এই দুটোর মধ্যে যেটাতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেশি, তার ৬ শতাংশ হিসেবে। বাকি তিনটে বিষয়ের ক্ষেত্রে জুনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপ, সহকারী অধ্যাপক পদের যোগ্যতা এবং পিএইচডি ভর্তির যোগ্যতা সংক্রান্ত বিষয়ভিত্তিক বণ্টন হবে Information Bulletin এ উল্লেখিত নিয়ম অনুযায়ী। পুনঃপরীক্ষার পর ইতিমধ্যে নির্ধারিত এই সংখ্যা কোনো অবস্থাতেই কমানো হবে না বলে নিশ্চিত করেছে সংস্থা।
NTA র বক্তব্য
NTA জানিয়েছে, ন্যায্য, নির্ভুল এবং স্বচ্ছ পরীক্ষা পরিচালনার প্রতি তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পরীক্ষার্থীদের শুধুমাত্র NTA র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, nta.ac.in এবং ugcnet.nta.nic.in, এবং সংস্থার সরকারি যোগাযোগ মাধ্যমের উপর নির্ভর করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জুন মাসের ২২ থেকে ৩০ তারিখ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই UGC NET পরীক্ষা মূলত জুনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপ প্রদান, সহকারী অধ্যাপক পদের যোগ্যতা নির্ধারণ এবং পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য নেওয়া হয়েছিল।
উপসংহার
লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ জড়িয়ে থাকা একটা জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় এই ধরনের ত্রুটি নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়। তবে অভিযোগ পাওয়ার পর NTA র দ্রুত পদক্ষেপ এবং কোনো বাড়তি ফি ছাড়াই পুনঃপরীক্ষার সিদ্ধান্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর। এই ঘটনা আরও একবার প্রশ্ন তুলে দিল দেশের বড় বড় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোর প্রশ্নপত্র তৈরির প্রক্রিয়ায় গুণমান নিয়ন্ত্রণ কতটা কঠোর হওয়া উচিত, সেই বিষয়ে। আগামী সেপ্টেম্বরের পুনঃপরীক্ষা যাতে নির্ভুল এবং স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর।
