Tuesday, August 18, 2026

 বিনোদন ডেস্ক: আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, সবুজ মাঠের বিস্তার আর কুমোরপাড়ায় ধীরে ধীরে রূপ পাচ্ছে দেবীপ্রতিমা, এই ছবিগুলো যেন একসঙ্গে বলে দিচ্ছে একটাই কথা, বাংলার প্রিয় উৎসব আর বেশি দূরে নেই। একটা ফটো স্টোরির মাধ্যমে দেখে নেওয়া যাক প্রকৃতি এবং শিল্পীর হাতে কীভাবে একসঙ্গে তৈরি হচ্ছে পুজোর প্রস্তুতি।

ছবি ১, মাটির হাতে রূপ পাচ্ছে দেবী

কুমোরপাড়ার একটা কর্মশালায় তখনও রঙের প্রলেপ পড়েনি প্রতিমার গায়ে। কাঠামোর উপর মাটি দিয়ে গড়া হয়েছে দেবীর দশ হাত, প্রতিটা হাতেই যেন নির্দিষ্ট একটা ভঙ্গিমা অপেক্ষা করছে অস্ত্র ধারণের জন্য। পাশেই দেখা যাচ্ষে অসুরের অবয়ব, যার মুখ এখনও দেবীর দিকে তাকিয়ে অসম্পূর্ণ অবস্থায়। সিংহের কাঠামোও প্রস্তুত হয়ে আছে একপাশে। মাটি শুকিয়ে যাওয়ার আগেই শিল্পীরা এভাবে সূক্ষ্ম কাজ সেরে ফেলেন, যাতে পরবর্তী ধাপে রং আর সাজসজ্জা বসানো যায় নিখুঁতভাবে। প্রতিমা তৈরির এই প্রাথমিক অবস্থাটাই আসলে সবচেয়ে বেশি ধৈর্য আর দক্ষতার পরীক্ষা।

কুমোরপাড়ার এক কর্মশালায় দশ হাতের কাঠামো এবং অসুরের অবয়ব নিয়ে অসম্পূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছেন মাটির দুর্গা প্রতিমা. ছবির উৎস: সংগৃহীত
ছবি ২, সবুজের বুকে নীল আকাশের হাতছানি

একটা ছাদ বা বারান্দা থেকে ধরা এই দৃশ্যে দেখা যাচ্ছে ঘন সবুজ গাছের সারি এবং তার উপরে নীল আকাশে সাদা মেঘের খেলা। বর্ষার শেষ লগ্নে আকাশের এই রূপ বাংলার চিরাচরিত শরৎ আগমনের ইঙ্গিত দেয়। নিচে দেখা যাচ্ছে একটা খোলা মাঠ এবং রাস্তা, যেখানে গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে নিশ্চিন্তে। প্রকৃতির এই শান্ত সৌন্দর্য যেন পুজোর আগমনী বার্তা বহন করে নিয়ে আসে প্রতি বছর।

ঘন সবুজ গাছের উপরে নীল আকাশে ভাসমান সাদা মেঘ, ক্যাম্পাসের এক শান্ত দুপুরের দৃশ্য. ছবির উৎস: সংগৃহীত
ছবি ৩, খোলা মাঠ আর ফুটবল গোলপোস্টের নিস্তব্ধতা

বিস্তৃত সবুজ মাঠের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা একটা ফুটবল গোলপোস্ট, চারপাশে ঘিরে থাকা গাছের সারি এবং মাথার উপর নীল আকাশে ভাসমান মেঘ, এই দৃশ্য যেন কোনো ক্যাম্পাসের এক শান্ত দুপুরের প্রতিচ্ছবি। মাঠের কোনায় বসে থাকা একজন মানুষের অবয়বও চোখে পড়ে, যিনি হয়তো এই নিস্তব্ধতাকেই উপভোগ করছেন। এই ধরনের খোলা জায়গা এবং সবুজের বিস্তার বাংলার মফস্বল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটা চেনা ছবি।

ক্যাম্পাসের বিস্তৃত মাঠে একলা দাঁড়িয়ে থাকা ফুটবল গোলপোস্ট, চারপাশে ঘিরে থাকা গাছের সারি
ছবি ৪, মেঘলা আকাশের নাটকীয়তা

এই ছবিতে আকাশ অনেকটাই ঘন মেঘে ঢাকা, যা আগের ছবিগুলোর তুলনায় অনেক বেশি নাটকীয়। সাদা এবং ধূসর মেঘের এই সংমিশ্রণ বৃষ্টি নামার আগের মুহূর্তের ইঙ্গিত দেয়। নিচে সেই একই সবুজ মাঠ এবং গাছের সারি, তবে আলোর পরিবর্তনে দৃশ্যটা পেয়েছে একটা সম্পূর্ণ ভিন্ন মেজাজ। প্রকৃতির এই পরিবর্তনশীল রূপই বর্ষা এবং শরতের সন্ধিক্ষণের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য।

ঘন মেঘে ঢাকা আকাশ আর সবুজ মাঠের বৈসাদৃশ্য, বর্ষা ও শরতের সন্ধিক্ষণের এক দৃশ্য
ছবি ৫, রাস্তা যেখানে সবুজের মধ্যে হারিয়ে যায়

উপর থেকে তোলা এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে একটা প্যাঁচানো রাস্তা, যার দুপাশে সারিবদ্ধ তালগাছ এবং অন্যান্য গাছপালা। রাস্তার একপাশে সাজানো বাগান আর অন্যপাশে বিস্তৃত মাঠ, দূরে দেখা যাচ্ছে ফুটবল গোলপোস্টও। লোহার রেলিং দিয়ে ঘেরা এই প্রাঙ্গণ এবং পরিপাটি রাস্তা বলে দেয় এটা যত্ন সহকারে রক্ষণাবেক্ষণ করা কোনো প্রতিষ্ঠান চত্বর। ছবির সামগ্রিক শান্ত পরিবেশ যেন প্রকৃতি এবং মানুষের হাতে গড়া পরিবেশের এক সুন্দর মেলবন্ধন তুলে ধরে।

তালগাছ ও সাজানো বাগান ঘেরা একটা রাস্তা, উপর থেকে ধরা ক্যাম্পাসের এক নিখুঁত দৃশ্য. ছবির উৎস: সংগৃহীত
উপসংহার

একদিকে কুমোরপাড়ায় ধীরে ধীরে আকার নিচ্ছে মাটির দেবী, অন্যদিকে আকাশে জমছে শরতের মেঘ, এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই যেন প্রতি বছর নতুন করে ধরা দেয় বাংলার সবচেয়ে প্রিয় উৎসবের আগমনী বার্তা। প্রকৃতি আর শিল্পীর হাত, দুটোই যেন একসঙ্গে প্রস্তুতি নিচ্ছে সেই মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য, যখন মাটির প্রতিমা রঙে রূপে সম্পূর্ণ হয়ে উঠবেন, আর আকাশ বাতাস জুড়ে ছড়িয়ে পড়বে উৎসবের আনন্দ।

Leave A Reply

Exit mobile version