সংক্ষিপ্ত সারাংশ: হ্যাংঝাউয়ে আইএসএসএফ বিশ্বকাপে ভারতের জোড়া সাফল্য। মহিলাদের ২৫ মিটার পিস্তল ইভেন্টে ৪০ হিট নিয়ে সোনা জেতেন এষা সিং, আগের রেকর্ড পারফরম্যান্সের চাপ কাটিয়ে ওঠার স্বস্তি প্রকাশ করেন তিনি। কঠিন শুট-অফের পর ২৮ হিট নিয়ে ব্রোঞ্জ জেতেন প্যারিস অলিম্পিক্স পদকজয়ী মনু ভাকের, যা তিনি আসন্ন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ ও এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে বর্ণনা করেন। দুই শুটারের এই পারফরম্যান্স ভারতীয় ক্রীড়ামহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। কোয়ালিফিকেশনেও শীর্ষে ছিলেন এই দুই শুটার, তবে রাহি সরনোবত অল্পের জন্য পদক রাউন্ডে জায়গা পাননি।
ক্রীড়া প্রতিবেদক: চিনের হ্যাংঝাউয়ে চলতি আইএসএসএফ বিশ্বকাপ রাইফেল/পিস্তল/শটগান প্রতিযোগিতায় রবিবার ভারতীয় শুটিংয়ের মুকুটে জুড়ল আরও দুটি পালক। মহিলাদের ২৫ মিটার পিস্তল বিভাগে সোনা জিতলেন এষা সিং, আর প্যারিস অলিম্পিক্সে পদকজয়ী মনু ভাকের ঘরে তুললেন ব্রোঞ্জ। আট প্রতিযোগীর ফাইনালে দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে ৪০ হিট নিয়ে সোনা নিশ্চিত করেন এষা। অন্যদিকে কঠিন লড়াইয়ের পর শুট-অফ পেরিয়ে ২৮ হিট নিয়ে ব্রোঞ্জ পান মনু।
প্রত্যাশার চাপ সামলে সোনা এষার
মিউনিখে মরসুমের শুরুতে রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্সের পর নিজের ওপর তৈরি হওয়া প্রত্যাশার চাপ যে এবারের প্রতিযোগিতাকে আরও কঠিন করে তুলেছিল, তা অকপটে স্বীকার করেছেন এষা। তাঁর কথায়, আগের পদকের কারণে এই ম্যাচ তাঁর কাছে ছিল বাড়তি চাপের। তিনি জানিয়েছেন, নিজের খেলায় যত উন্নতি হয়, ততই সেই মর্যাদা ধরে রাখার চাপ বাড়ে — আজ সেই চাপ কাটিয়ে উঠতে পেরে তিনি স্বস্তি এবং কৃতজ্ঞতা বোধ করছেন।
হ্যাংঝাউয়ের সঙ্গে এষার সম্পর্কটাও বিশেষ। এশিয়ান গেমসে এখান থেকেই চারটি পদক জিতেছিলেন তিনি, তাই এই ভেন্যুতে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন। রেঞ্জের পরিবেশ, আলো এবং ফাইনাল হলের চেনা পরিবেশ তাঁকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে বলে জানান তিনি।
মনুর কাছে এই ব্রোঞ্জ ‘স্টেপিং স্টোন’
আসন্ন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ এবং এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতির পথে এই ব্রোঞ্জ পদককে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন মনু ভাকের। তাঁর বক্তব্য, এই পদক তাঁকে স্পষ্ট ধারণা দিচ্ছে কোন জায়গাগুলো ঠিক পথে এগোচ্ছে এবং আগামী দিনে কোন দিকে মনোযোগ দেওয়া দরকার। পদক আত্মবিশ্বাস বাড়ালেও, এই প্রতিযোগিতা থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতাই তাঁকে আসন্ন বড় প্রতিযোগিতাগুলিতে বেশি সাহায্য করবে বলে তিনি মনে করেন।
কোয়ালিফিকেশনেও এগিয়ে ছিল ভারতীয় জুটি
ফাইনালে ওঠার লড়াইয়েও শুরু থেকে দাপট দেখিয়েছিলেন এই দুই শুটার। কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে ৫৮৬-২০x স্কোর করে শীর্ষে ছিলেন মনু, আর ৫৮৫-১৮x নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থেকে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেন এষা।
তবে এশিয়ান গেমসের প্রাক্তন চ্যাম্পিয়ন রাহি সরনোবতের কপাল খারাপ — ৫৮২-১৬x স্কোর নিয়ে অল্পের জন্য পদক রাউন্ডে জায়গা পাননি তিনি। এছাড়া সিমরনপ্রীত কউর ব্রার (৫৭৬-২০x) এবং অভিজ্ঞা অশোক পাটিল (৫৭৩-১৬x) র্যাঙ্কিং পয়েন্টস অনলি (RPO) মর্যাদায় প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।
উপসংহার
হ্যাংঝাউয়ের এই জোড়া পদক শুধু একটি প্রতিযোগিতার ফলাফল নয়, বরং আসন্ন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ ও এশিয়ান গেমসের আগে ভারতীয় পিস্তল শুটিংয়ের গভীরতা ও ধারাবাহিকতার একটি স্পষ্ট প্রমাণ। এষা সিংয়ের প্রত্যাশার চাপ জয় করার গল্প যেমন তরুণ প্রতিভার পরিণত হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দেয়, তেমনই মনু ভাকেরের এই ব্রোঞ্জ প্রমাণ করে অলিম্পিক পদকজয়ীরাও প্রতিটি প্রতিযোগিতাকে শেখার সুযোগ হিসেবে দেখেন। আগামী কয়েক মাসে এই দুই শুটারের পারফরম্যান্সের দিকে নজর থাকবে গোটা শুটিং মহলের।

