সংক্ষিপ্ত সারাংশ: পরিচালক Amit Rai এর নতুন সিনেমা Ohh My Dog মানুষ আর কুকুরের মধ্যেকার এক অদ্ভুত সুন্দর বন্ধনের গল্প বলে। Pankaj Tripathi, Pavan Malhotra এর মতো অভিজ্ঞ অভিনেতাদের পাশাপাশি এই সিনেমার আসল নায়ক আসলে দুটো কুকুর, Oscar এবং Momo। তবে গল্পের আবেগ যতটা মন ছুঁয়ে যায়, দৈর্ঘ্যের কারণে সিনেমাটা ততটাই টেনে লম্বা মনে হতে পারে।
বিনোদন ডেস্ক: আগের সিনেমা Oh My God 2 তে স্কুলে যৌন শিক্ষা নিয়ে সাহসী অবস্থান নেওয়া পরিচালক Amit Rai এবার একেবারে অন্য এক জগতে পা রেখেছেন, মানুষ আর কুকুরের সম্পর্কের জগতে। Ohh My Dog নামের এই সিনেমা একসঙ্গে দুটো আলাদা শহরের দুটো আলাদা গল্প বলে, যেখানে একদিকে আছে একটা হারিয়ে যাওয়া কুকুরকে খুঁজে বের করার চেষ্টা, আর অন্যদিকে আছে একটা কুকুরের নিজের মালিককে খুঁজে বের করার লড়াই।
গল্প কেমন
অসমের এক শহরে ছোট্ট Apu তার হারিয়ে যাওয়া প্রিয় কুকুর Momo কে খুঁজে বের করার জন্য নিজের বুদ্ধি খাটিয়ে তদন্তে নামে, পুলিশের চেয়েও এগিয়ে থেকে। অন্যদিকে বিহারে এক নির্মাণ শ্রমিক Prince হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায়, আর তার প্রিয় কুকুর Oscar নিজের মালিকের গন্ধ অনুসরণ করে নিজেই শুরু করে দেয় নিজস্ব এক তদন্ত। দুটো গল্পই সমান্তরালভাবে এগোতে থাকে, আর দুটোতেই উঠে আসে সমাজের অন্ধকার দিক, পশু পাচার, শিশু শোষণ এবং অঙ্গ পাচারের মতো ভারী বিষয়।
কী ভালো লেগেছে
সিনেমার সবচেয়ে বড় শক্তি তার সহজ সরল আবেগ। যেখানে গল্প বার্তা দেওয়ার চেষ্টা ভুলে শুধু সম্পর্কের দিকে মনোযোগ দেয়, সেই মুহূর্তগুলোই সবচেয়ে বেশি ছুঁয়ে যায়। Oscar চরিত্রে অভিনয় করা কুকুরটার নাম Bruno, যার স্ক্রিন প্রেজেন্স রীতিমতো মানুষ অভিনেতাদেরও ঈর্ষান্বিত করার মতো। বিপদের মুখোমুখি হওয়া থেকে শুরু করে সূত্র খুঁজে বের করা, সবকিছুতেই তার উপস্থিতি দর্শকদের বেঁধে রাখে। পরিচালক তাকে অনেকটা হিন্দি সিনেমার হিরোর মতোই ফ্রেমে উপস্থাপন করেছেন, যা একটা নতুন এবং মজার উপস্থাপনা।
নতুন মুখ Maahi Rai ও Apu চরিত্রে বেশ আত্মবিশ্বাসী অভিনয় করেছেন। তার বাড়িতে Satyajit Ray র পোস্টার আর নিজের নাম Apu রাখার মধ্যে দিয়ে সিনেমাটা সত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত অপু ট্রিলজির প্রতি একটা শ্রদ্ধার্ঘ্যও জানিয়েছে। এছাড়া মহাভারতের প্রসঙ্গও টেনে আনা হয়েছে গল্পে, যেখানে একটা কুকুরকে ঘিরেই মহাকাব্যের শুরু আর শেষ হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়।
কী খামতি রয়ে গেছে
তবে আড়াই ঘণ্টার এই সিনেমা মাঝেমধ্যে ধৈর্যের পরীক্ষা নেয়। যা দর্শক আগেই বুঝে গেছেন, সেটাই বারবার ব্যাখ্যা করার প্রবণতা সিনেমার গতিকে শ্লথ করে দিয়েছে। Apu র বুদ্ধিমত্তা বারবার প্রমাণ করার চেষ্টা এবং শেষদিকের গাড়ি তাড়া করার দৃশ্যও প্রয়োজনের তুলনায় অনেকটা লম্বা মনে হয়েছে। Pankaj Tripathi র মতো শক্তিশালী অভিনেতাকে পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি বলেও মনে করছেন কিছু সমালোচক, আবার গানগুলোও তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিনয় নিয়ে সংক্ষেপে
Pankaj Tripathi তার চেনা উষ্ণতা নিয়েই হাজির হয়েছেন এক শিক্ষকের চরিত্রে। Rajesh Kumar একজন দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ অফিসারের চরিত্রে বেশ প্রশংসিত হয়েছেন, আর Pavan Malhotra র উচ্চকণ্ঠের চরিত্রায়ন কারও কারও কাছে একটু ক্লান্তিকরও মনে হতে পারে। তবে সব ছাপিয়ে দুই কুকুর চরিত্র Oscar আর Momo ই যেন গোটা সিনেমার প্রাণভোমরা হয়ে উঠেছে।
ন্যায় আর মানবতার এক রূপক
সিনেমাটাকে অনেক সমালোচকই একটা রূপক গল্প হিসেবে দেখছেন, যেখানে নিষ্ঠুর একটা পৃথিবীতে দুর্বল আর অসহায়দের প্রতি সহমর্মিতা দেখানোর কথা বলা হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য একটা দৃশ্য আছে যেখানে শত শত রাস্তার কুকুর নিজেদের এলাকা ভুলে একজোট হয়ে তাদের অত্যাচারীদের মুখোমুখি হয়। এই দৃশ্যটা হাঙ্গেরিয়ান পরিচালক Kornel Mundruczo র বিখ্যাত সিনেমা White God থেকে অনুপ্রাণিত বলে মনে করা হচ্ছে, আর মজার বিষয় হলো এই সিনেমার সিনেমাটোগ্রাফার Mate Herbai নিজেও হাঙ্গেরির মানুষ।
Apu চরিত্রটাকে অনেকেই সত্যজিৎ রায়ের গোয়েন্দা চরিত্র Feluda র একটা ছোট সংস্করণ হিসেবেও দেখছেন, শুধু নাম নয়, তার বুদ্ধিদীপ্ত আচরণেও সেই ছাপ স্পষ্ট। পরিচালক গল্পে ধর্মীয় প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন Apu এবং Oscar এর প্রচেষ্টাকে আশীর্বাদ করার জন্য, যদিও শেষ পর্যন্ত মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ আর একটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ কুকুরই বদলে দেয় সব হিসেব। দরিদ্র নির্মাণ শ্রমিক Prince এর প্রতি পরিচালকের সহানুভূতিও সিনেমায় স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে, যেখানে দেখানো হয় কীভাবে আর্থিক অবস্থার কারণেই কারও অভিযোগ গুরুত্ব পায়, আবার কারও পায় না। Apu র পরিবার তুলনামূলক স্বচ্ছল বলেই তার কথা পুলিশ আমলে নেয়, কিন্তু Prince এর মতো দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো তেমন কেউ থাকে না, একমাত্র Pankaj Tripathi র চরিত্রটা বাদে।
উপসংহার
Ohh My Dog নিখুঁত কোনো সিনেমা নয়, দৈর্ঘ্য এবং কাঠামোগত কিছু দুর্বলতা স্পষ্টভাবেই চোখে পড়ে। কিন্তু যারা পশুপ্রেমী, বিশেষ করে কুকুরের সঙ্গে কোনো না কোনো সময় নিজের একটা সম্পর্ক তৈরি করেছেন, তাদের কাছে এই সিনেমা মন ছুঁয়ে যাওয়ার মতো একটা অভিজ্ঞতা হতে পারে। ১৯৮৫ সালের Teri Meherbaniyan এর পর বলিউডে মানুষ আর কুকুরের সম্পর্ক নিয়ে এত আন্তরিকভাবে তৈরি সিনেমা খুব একটা দেখা যায়নি। কিছুটা সম্পাদনার কাঁচি চালানো গেলে সিনেমাটা আরও অনেক বেশি শক্তিশালী হতে পারত, তবু হৃদয় দিয়ে বলা এই গল্প শেষ পর্যন্ত দর্শকদের মনে একটা প্রশ্ন রেখে যায়, রাস্তার একটা কুকুরকেও কি আমরা যথেষ্ট ভালোবাসা দিতে পারি।
