সংক্ষিপ্ত সারাংশ: পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতর নতুন বদলি নীতি চালু করেছে, যেখানে কোনও আধিকারিক নিজের হোম ডিস্ট্রিক্টে পোস্টিং পাবেন না এবং কোনও পদে তিন বছরের বেশি থাকতে পারবেন না। কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতরের নির্দেশিকা মেনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য প্রশাসনে স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি। অবসরের আগে বা বিশেষ মানবিক পরিস্থিতিতে কিছুটা ছাড়ের সুযোগ রাখা হলেও, স্বাস্থ্য দফতরের সব শাখায় এই নীতি কঠোরভাবে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
কলকাতা ব্যুরো: স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা বাড়াতে প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদলের পথে হাঁটল রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতর। সম্প্রতি জারি হওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এবার থেকে কোনও আধিকারিক বা কর্মী নিজের হোম ডিস্ট্রিক্টে পোস্টিং পাবেন না, আর কোনও একটি নির্দিষ্ট পদে টানা তিন বছরের বেশি সময় থাকতেও পারবেন না।
কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতরের নির্দেশিকা মেনেই সিদ্ধান্ত
সূত্রের খবর, গত সোমবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতর এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, যা কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতরের ১৩ জুলাইয়ের নির্দেশিকা মেনেই প্রণয়ন করা হয়েছে। দফতরের সব শাখা ও অধিদপ্তরকে অবিলম্বে এই নীতি কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কী বলছে নতুন নিয়ম
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কোনও আধিকারিক বা কর্মী স্বাভাবিকভাবে নিজের হোম ডিস্ট্রিক্টে পোস্টিং পাবেন না — অবসরের ঠিক দু’বছর আগে প্রশাসনিক সুবিধার কথা বিবেচনা করে সামান্য ছাড় দেওয়া হতে পারে, তাও নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে। এছাড়া, রাজস্ব সংগ্রহ, কর সংগ্রহ বা অন্যান্য স্পর্শকাতর দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের ক্ষেত্রেও কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে — কোনও পদে একটানা তিন বছরের বেশি থাকা যাবে না।
কেন এই সিদ্ধান্ত
নতুন এই নিয়মের পেছনে সরকারের মূল লক্ষ্য প্রশাসনে স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা এবং কর্মদক্ষতা বাড়ানো। দীর্ঘদিন একই পদে বা নিজের এলাকায় থাকার ফলে প্রশাসনিক স্থবিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, কাজের গতি কমে যেতে পারে এবং স্বজনপোষণ বা অনিয়মের সুযোগও বেড়ে যেতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসন। নিয়মিত বদলির মাধ্যমে এই ঝুঁকিগুলো এড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
ব্যতিক্রমের সুযোগও রাখা হয়েছে
তবে এই কড়া নিয়মের মধ্যেও সরকার কিছুটা নমনীয়তার জায়গা রেখেছে। প্রশাসনিক প্রয়োজনে বা বিশেষ মানবিক পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করলে এই নিয়মে ছাড় দিতে পারবেন বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতরের সব শাখায় কার্যকর হবে নীতি
স্বাস্থ্য দফতরের এই সার্কুলার অনুযায়ী, নতুন নীতি কঠোরভাবে কার্যকর হবে দফতরের সব শাখায় — স্বাস্থ্য পরিষেবা অধিদপ্তর, চিকিৎসা শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিএমই), আয়ুষ, হোমিওপ্যাথি এবং ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন একই পদে থাকা আধিকারিকদের রদবদল হলে কাজের গতি বাড়বে এবং স্বজনপোষণ বা অনিয়মের সুযোগও অনেকটাই কমবে।
উপসংহার
স্বাস্থ্য দফতরের এই নতুন বদলি নীতি রাজ্য প্রশাসনে দীর্ঘদিনের একটি প্রবণতা — নিজের এলাকায় বা একই পদে বছরের পর বছর কাটিয়ে দেওয়ার প্রবণতায় লাগাম টানার একটি স্পষ্ট প্রয়াস। যদিও নীতিটি কার্যকর হলে স্বল্পমেয়াদে প্রশাসনিক স্তরে কিছুটা রদবদল ও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে, দীর্ঘমেয়াদে এটি স্বচ্ছতা ও কর্মদক্ষতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। এখন দেখার বিষয়, বাস্তবে এই নীতি কতটা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয় এবং তা রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়নে কতটা প্রভাব ফেলে।

