পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়কে শুধু নির্বাচনী সাফল্য নয়, জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
শুক্রবার কলকাতায় বিজেপি বিধায়কদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, এই জয় ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার “অন্যতম বৃহত্তম ফাঁকফোকর” বন্ধ করে দিয়েছে। তাঁর কথায়, এখন আসাম, ত্রিপুরা ও বাংলায় বিজেপি সরকার থাকায় অনুপ্রবেশ ও গরু পাচার রোধ করা অনেকটাই সহজ হবে।
“কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একযোগে কাজ করে সীমান্তকে একটি অভেদ্য দুর্গে পরিণত করবে,” — এ কথা জানান শাহ। উল্লেখ্য, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মোট ৪,০৯৬ কিলোমিটারের মধ্যে ২,২১৬ কিলোমিটারই পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে দিয়ে গেছে।
শাহর কথায়: “যারা এটিকে মেরুকরণ বলছেন, তাঁরা ভুল করছেন। এটি মেরুকরণ নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন। বাংলা ও দেশের মানুষের কাছে বিজেপির প্রতিশ্রুতি — প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে দেশ থেকে বের করা হবে।”
মতাদর্শগত তাৎপর্যের কথা তুলে ধরতে গিয়ে শাহ বলেন, গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত প্রতিটি রাজ্যে এখন বিজেপি-র সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে — যা প্রায় একশো বছরের মতাদর্শগত যাত্রার ফসল। তিনি জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা ও বিজেপির আদর্শিক পূর্বসূরি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং বলেন, বাংলায় এই সরকার গঠন তাঁরই আশীর্বাদের ফল।
এছাড়া বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তির কথা উল্লেখ করে শাহ বলেন, সেই মহান সাহিত্যিকের রাজ্যে বিজেপির সরকার গঠন একটি “বিশাল প্রতীকী ঘটনা”।
দলের বিকাশের কথা বলতে গিয়ে শাহ জানান, ২০১৬ সালে মাত্র তিনটি আসন থেকে বিজেপি ২০২১-এ ৭৭টি এবং ২০২৬-এ ২০৭টি আসন পেয়েছে। তিনি আরও জানান, বিজেপির জয়ী প্রার্থীদের গড় জয়ের ব্যবধান ছিল ২৮,০০০ ভোট এবং ২৩টি জেলার মধ্যে ৯টিতে তৃণমূল কংগ্রেস একটি আসনও পায়নি।
ভবানীপুর আসনে শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করায় বিশেষভাবে ভোটারদের ধন্যবাদ জানান শাহ। শুক্রবারই বিজেপি বিধায়ক দলের নেতা হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করা হয়।

